রাধাকান্ত মন্ডল, নিউ দিল্লী। তারিখ : ০১.০৭.২০২৫
আষাঢ়ের ঘনো কালো মেঘের মতো
দেখি আজ আমার অর্ধাঙ্গিনীর
মুখখানা ভারী
আজ সাঁঝে কে বরশিবে অধিক ধরণী প্লাবিত করিয়া
মেঘ না আমার অর্ধাঙ্গিনী।
কোন অপরাধ না জানি আজ করিলেম আমি
কিছুই তো তাহার মাথা মুন্ডু ভাবিয়া কুল পাইনা,
আমি অহিংসক, এক হতভাগা নিরীহ প্রাণী
স্ত্রী অত্যাচারে সদা ত্রস্ত জর্জরিত।
মনে মনে ভাবি, আজ ওর জন্মদিনও তো না
না ওর কোনো আত্মীয় স্বজনের,
না আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী
আর না ওর দাদা বৌদির।
কাহারও বিবাহের নিমন্ত্রণ তো নেই আজ আবার,
শাড়ি টাড়ি কিনে দিতে ভুলিয়া যাই না তো ওকে আমি,
মানুষ মাত্রই একটু আধটু ভুল হইতেই পারে
তাহা বলিয়া ও আমায় একটু মনে করিয়া দিতেও কি পারিত না
ইহার কোনো কারণ খুঁজিয়া পাইলাম না আমি।
যত দূর মনে পড়ে কিছু দিন তো ওর সাথে আমার কোনো বাদ বিবাদও হয়নি
গত দিন পনেরো শান্তি ছিল বটে ঘরে
তাই বুঝি ও আজ আমাকে একটু জব্দ করিবার ফন্দি আঁটিয়াছে মনে,
ত্রিয়া চরিত্র বোঝা বড় দায়।
আমিও তাই ঠিক করিয়াছি আজ
আর ওর কোনো কথার প্রতি উত্তর দেবো না
আর কোনো বাদ বিবাদও করিবনা।
কুলুপ আঁটিয়া মুখে
চুপটি করিয়া রহিব বাবু সোনার মত
ঘরের এক কোনায় বসিয়া
যেনো ভেজা বিড়াল
ভাজা মাছটিও উল্টাইয়া খাইতে জানেনা।
দেখি আজ রাতে শেষ রক্ষা হয় কিনা?
---------------------
রাধাকান্ত মন্ডল, নিউ দিল্লী। তারিখ : 11.08.2025
হে মা দুর্গা দশভূজা ধারিনী
মোর প্রতি কেনো এত রুষ্ট হইলে তুমি
কহো কি কারণে হে মাতে
হে করুনাময়ী।
হে মা দুর্গা হে দুর্গতিনাশিনী
উমা চন্ডি ভবানী
জয়ন্তী মঙ্গলা কালী
সর্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে।
হে মাতে নিত্য পরম শ্রদ্ধায় আমি নোয়াইতাম নিজ শির তবো চরণ কমল তলে
তবো চরণ ধুলি লাগিয়ে নিজ ভালে
বড় ভাগ্যবান মনে করিতাম আপনারে আমি।
হে জগৎ জননী মাতা দশভূজা দুর্গা
মহীয়সী রূপে তোমাকেই শুধু চিনি জানি আমি
নিজ মা'কে সেই কবেই হারিয়েছি আমি।
বড় দুঃখী আমি নিজ মা'কে হারিয়ে
জীবনে তাহার অবদান আমি ভুলি কি করিয়া আমি
আমার এ জীবন দেহ মন
সবই তো তারই দেওয়া।
বড় ভালোবাসিতাম আমি আমার স্নেহ মায়া মমতায় ভরা মা'কে
এই বৃদ্ধ বয়সেও মাঝে মাঝে তাহার কথা ভাবিয়া
লোকচক্ষু আড়ালে আজও আমি কাঁদিয়া উঠি ডুকরিয়া।
হে মাতে কেনো এত রুষ্ট হইলে তুমি আমার প্রতি
কহো মাতে আমার সেবায়, পূজায় অর্চনায়
কভু কি হয়েছিল কোনো ত্রুটি।
বড় দুঃখিত আমি হে মাতে
হে করুণাময়ী,
নিত্য নানা আশঙ্কায়, দুশ্চিন্তায় যাইছে কাটিয়া জীবন আমার
নীরবে চোখের জল ফেলি আমি
বড় হতভাগা, গুনছি দিন পরপারে যাইবার
নানাবিধ ব্যাধিতে জর্জিত মোর দেহখানি।
নাহি মোক্ষ অভিলাষী, নাহি কাশী অভিলাষী
ব্রজ ধাম নিবাস জীবনের শেষ অভিলাষা
সেবিয়া রাধাকৃষ্ণ যুগল মূর্তি
যায় যেনো মোর প্রাণ।
নমোস্তুতে তোমায় হে দেবী মা দুর্গা দশভূজা ধারিণী
জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বহা স্বধা নমোস্তুতে
সর্বমঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে
শরণ্যে ত্রয়ম্বকে গৌরি নারায়ণী নমোস্তুতে।
যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তি রূপেণ সংস্থিতা
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।
যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধি রূপেণ সংস্থিতা
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।
যা দেবী সর্বভূতেষু লক্ষ্মী রূপেণ সংস্থিতা
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।
সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনি
গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণী নমোস্তুতে।
শরনাগত দীনার্ত পরিত্রাণ পরায়ণে
সর্বস্যার্তি-হরে দেবী নারায়ণী নমোহস্তুতে।
আশীর্বাদ করো তুমি মোহে
হে মাতে! মম মনোরথ যেনো পুরে।
রাধাকান্ত মন্ডল, নিউ দিল্লী। তারিখ : ০১.০৭.২০২৫ আষাঢ়ের ঘনো কালো মেঘের মতো দেখি আজ আমার অর্ধাঙ্গিনীর মুখখানা ভারী আজ সাঁঝে কে বরশিবে অধিক ধরণী প্লাবিত করিয়া মেঘ না আমার অর্ধাঙ্গিনী। কোন অপরাধ না জানি